চুলের যত্ন | চুলকে সুরক্ষিত রাখুন ৬টি সহজ উপায়ে

চুলের যত্ন
চুলের যত্ন

চুলের যত্ন নিবেন কি করে ভেবে পাচ্ছেন না? আজকের এই ব্লগে দারুন সব টিপস দিবো আশা করি আজকের এই ব্লগ থেকে আপনারা বেশ উপকৃৃত হবেন এবং কার্যকরী কিছু উপায় খুঁজে পাবেন যার মাধ্যমে আপনার চুলকে আরো সুন্দর ও স্বাস্থোজ্জ্বল করে তুলতে পারবেন।

১. চুল সুরক্ষিত রাখার কৌশল

আমাদের দেশের বর্তমান আবহাওয়ার যে অবস্থা তাতে করে তো চুলকে সুস্থ, সুন্দর সুরক্ষিত রাখতে পারাটাই একটা বিশাল চ্যালেঞ্জ!

তবে সবসময় চেষ্টা করা উচিত সূর্যের কড়া রোদ, তাপ, ধুলোবালি এগুলো থেকে সুরক্ষিত রাখার কারন এগুলো চুলের উপর খুব বাজে ভাবে দুর্দশা ডেকে আনে। ধুলোবালি ধীরে ধীরে চুলের গোড়ায় জমাট বাঁধতে শুরু করে এক পর্যায়ে চুল পড়া শুরু হয়ে যায়। তাই যথা সম্ভব ধুলোবালি থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন।

সূর্যের কড়া রোদের তাপে চুল রুক্ষ আর ডাল করে দেয় সেই সাথে চুল ব্রাউনিশ কালারও হয়ে যেতে পারে। সূর্যের আলোতে বিভিন্ন ক্ষতিকর রশ্মি থাকে। সূর্যের অতিরিক্ত এইসব ক্ষতিকর রশ্মি যদি সরাসরি আপনার চুলে লাগে তাহলে চুলে নানা রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। এক কথায় আপনার চুল দফারফা হয়ে যেতে পারে।

আর গরমে আপনাকে সতর্কতার সাথে চলতে হবে। চুলের গোড়ায় ঘাম/ময়লা জমতে দেওয়া যাবে না। অতিরিক্ত ঘাম/ময়লা ফলে চুলের গোড়া হালকা করে দেয়। রোদে বাহিরে বের হলে ছাতা নিতে ভুলবেন না। অবশ্যই ছাতা ব্যবহার করতে হবে আর ছেলেরা ক্যাপ পড়তে পারেন। ছাতার পরিবর্তে কাপড়, স্কার্ফ অথবা ওড়না দিয়ে ঢেকে রাখলেও অনেকাংশেই চুল সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।

এছাড়াও আপনার চুল সুরক্ষিত রাখার জন্য স্পেশাল সান প্রোটেকশন ওয়ালা হেয়ার মাস্কও ব্যবহার করতে পারেন।


২. গরমে বেশি করে পানি পান করুন

দিনে কমপক্ষে ৪ থেকে ৫ লিটার পানি পান করুন নিয়ম করে। জলীয় খাবার চুলকে ভেতর থেকে ময়েশ্চারাইজড আর হেলদি হতে সাহায্য করে।আপনার শরীরের বডি ফ্লুইড ঠিক রাখতে শরীর হাইড্রেটেড রাখতে বেশি করে ফলমূল ও লিকুইড খাবার খেতে হবে। আপনার শরীর যদি হাইড্রেটেড থাকে তাহলে চুল ময়েশ্চারাইজড থাকবে। চুল ময়েশ্চারাইজড থাকলে কড়া রোদ্রেও আপনার তেমন কোনো সমস্যার হবে না।

৩. চুল পরিষ্কার করুন ঠান্ডা পানি দিয়ে

আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষই শীতের সময় গরম পানি দিয়েই চুল পরিষ্কার করে থাকি কিন্তু এটা চুলের জন্য খুবই ক্ষতিকর। গরম পানিতে চুল পরিষ্কার করলে চুল থেকে প্রচুর পরিমানে প্রাকৃতিক তেল ও পুষ্টি বের হয়ে যায়। তাই চুল পরিষ্কার করার সময় গরম পানির পরিবর্তে ঠান্ডা পানি দিয়ে চুল পরিষ্কার করুন। তাছাড়াও গরম পানি ব্যবহারে হেয়ার ড্যামেজের আশঙ্কা থাকে। চুলের ত্বকের জন্য ঠান্ডা পানি খুবই উপকারী। ঠান্ডা পানি চুলের উপর আসা বিভিন্ন আক্রমন হতে চুলকে রক্ষা করতেও সাহায্য করে।

৪. সঠিক নিয়মে শ্যাম্পু ব্যবহার

সারাদিন বাহিরে থাকার কারনে আমাদের চুলে নানা রকম ধুলাবালি ও ময়লা জমে আর এই ময়লা পরিষ্কারের জন্য আমরা চুলে শ্যাম্পু ব্যবহার করে থাকি। চুলে শ্যাম্পু করার ক্ষেত্রে শ্যাম্পু নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনার চুলের ধরন অনুযায়ী শ্যাম্পু নির্বাচন করবেন একান্তুই না পারলে অবশ্যই একজন ভালো মানের হেয়ার স্টাইলিস্টের পরামর্শ নিতে পারেন। শ্যাম্পু করার সময় অবশ্যই চুল ভালোভাবে ভিজিয়ে নিতে হবে। ভেজা চুল শ্যাম্পুকে শোষণ করে নিতে সাহায্য করে থাকে। শ্যাম্পু চুলের গোড়ার দিকে মাথার ত্বকের অংকে ব্যবহার করুন আর যখন কন্ডিশনার ব্যবহার করবেন তখন চুলের আগায় ব্যবহার করবেন। 

শ্যাম্পু ব্যবহার অবশ্যই আলতোভাবে করতে হবে ভালোভাবে মাসাজ করে ব্যবহার করুন। চুলে শ্যাম্পু নিয়েই ধুয়ে ফেলা যাবেনা কমপক্ষে ২-৩ মিনিট দিয়ে রাখুন যাতে চুল শ্যাম্পুকে ভালোভাবে শোষণ করে নিতে পারে এবং যাতে এটা ঠিকমতো কাজ করতে পারে। চুলে বেশি পরিমানে ময়লা জমলে দুইবার ব্যবহার করুন। প্রতিদিন চুলে শ্যাম্পু দিবেননা। প্রতিদিন চুলে শ্যাম্পু দিলে চুলের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। সপ্তাহে ২/৩ বার ভালো শ্যাম্পু দিয়ে চুল পরিষ্কার করুন।


৫. গোসলের পরবর্তী চুলের যত্ন

গোসলের পরবর্তী আমরা আমাদের চুল তোয়ালে দিয়ে মুছি তোয়ালে দিয়ে মোছার সময় অবশ্যই জোরে জোরে মোছা পরিহার করতে হবে। জোরে জোরে ঘষার কারনে প্রস্থিকোষ ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। এতে করে চুল পড়তে পারে। তাই অবশ্যই মোছার সময় আলতোভাবে মুছতে হবে। গোসলের পরে আমাদের চুল ভেজা থাকবে এটাই স্বাভাবিক ভেজা চুল আঁচড়ানো পরিহার করুন। ভেজা চুল আঁচড়ানোর ফলে চুলের অনেক ক্ষতি হয়। ভেজা অবস্থায় চুল আঁচড়ালে চুলকে ভঙ্গুর করে দেয়।


৬. রাতে শোবার আগে চুলের যত্ন

সারাদিন অন্য কাজে ব্যস্ত থেকে রাতের বেলা হইতো অনেকেই ক্লান্ত থাকতে পারেন এটা স্বাভাবিক তবে হ্যাঁ ঘুমানোর আগের আপনার চুলের যত্ন নেয়া কিন্তু খুবই জরুরি। ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় আমাদের চুলের সব থেকে বড় ক্ষতি হয়। চুল পড়া থেকে শুরু করে চুলের আগা ভাঙ্গা, চুলের গ্রোথ বন্ধ হয়ে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা গুলো হয়ে থাকে তাই অবশ্যই রাতে ঘুমানোর আগে একটু খানি সময় বের করে চুলের যত্ন নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সারাদিন বাহিরে থেকে বাড়িতে যখন ফিরবেন তখন অবশ্যই চুল পরিষ্কার করে তবে ঘুমাতে যাবেন। বাহিরে থাকার কারনে চুলে ধুলাবালি সহ নানা রকম ময়লা লাগবে সেটা স্বাভাবিক তাই অবশ্যই ঘুমানোর আগে চুল সুন্দর করে পরিষ্কার করুন। শ্যাম্পু দিয়ে পরিষ্কার করার আগে আপনার চুলে একটু তেল লাগিয়ে নিন কিছুক্ষণ রেখে পরে শ্যাম্পু করে ধুয়ে পরিষ্কার করে ফেলুন। যদি ময়লা রেখেই ঘুমিয়ে পড়েন তাহলে আপনার চুলের স্ক্যাল্পের গোড়াগুলোকে বন্ধ করে দেয়।

আপনি অবশ্যই ঘুমানোর আগে চুল ভালোভাবে আঁচড়িয়ে নিবেন। এর ফলে আপনার মাথার স্ক্যাল্পে ভালোভাবে রক্ত সঞ্চালন হবে। সেই সাথে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করবে এবং চুল পড়া কমাবে।
চুল খুলে ঘুমানোর অভ্যাস পরিহার করুন। ঘুমানোর আগে চুল অবশ্যই বেঁধে ঘুমাবেন। চুলের জট ছাড়াতে মোটা চিরুনি ব্যবহার করুন।

ঘুমাতে যাবার আগে চুলে একটা ভিটামিন ই ক্যাপসুল মাথায় লাগাতে পারেন উপকার পাবেন। ভিটামিন ই ক্যাপসুল আপনি যেকোনো ফার্মেসী দোকানেই পাবেন।

   

    উপহার ম্যাগাজিন
সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২০

No comments

Powered by Blogger.